করিম খুলনায় জুট মিলে কাজ করে। মিলের পাশেই বস্তিতে বসবাস করে। সেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনেক লোকের বাস। নাই পয়ঃনিষ্কাশন ও রাস্তাঘাটের সুবিধা। আমাশয়, কলেরা, ডায়রিয়া প্রভৃতি রোগ লেগেই আছে। একদিন টেলিভিশন দেখে সে জানতে পারল- এ দেশের স্বাস্থ্যগত সমস্যা, পরিবেশ দূষণ প্রভৃতি জনসংখ্যা বেশি হওয়ার কারণেই হচ্ছে।
নিচে বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাবসমূহ উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করা হলো-
⇨ খাদ্য ঘাটতি: জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে প্রতি বছর প্রায় ৩০-৪০ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়। কারণ এদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৭% কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির হার ০.১৫%।
⇨শিক্ষাক্ষেত্রে সমস্যা জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রকট সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের দেশে জনসংখ্যা যে হারে বাড়ছে তাতে আমাদের সীমিত সম্পদের সাহায্যে বিপুল জনগোষ্ঠীর সুশিক্ষার ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না।
⇨ চিকিৎসাক্ষেত্রে সমস্যা জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে দৈন্যদশা দেখা যায়। বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য চিকিৎসাক্ষেত্রে হাসপাতালের স্বল্পতা, চিকিৎসা সরঞ্জামাদির অভাব, ওষুধের উচ্চমূল্য, ডাক্তার ও সেবিকার স্বল্পতা ইত্যাদি সমস্যাসমূহ জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে হয়ে থাকে।
⇨ বাসস্থানের ক্ষেত্রে সমস্যা: বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাসস্থানের ক্ষেত্রে প্রকট সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের বাসস্থান তৈরির জন্য কৃষিজমিকে বাসের উপযুক্ত করা হয়, যার ফলে খাদ্য উৎপাদন হ্রাস পায়।
⇨ কর্মসংস্থানের উপর প্রভাব জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে কর্মসংস্থানের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। দেশে যে হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সে হারে কর্মসংস্থান না বাড়ায় বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।
⇨ পরিবেশের উপর প্রভাব বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পরিবেশ নানাভাবে দূষিত হচ্ছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে অতিরিক্ত যানবাহন, অতিরিক্ত অপরিকল্পিত বাসস্থান, ময়লা নিষ্কাশনের অব্যবস্থাপনা পরিবেশকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
অতএব বলা যায়, জনসংখ্যা বৃদ্ধি আমাদের মৌলিক চাহিদার সব ক্ষেত্রেই বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?